ছয় মাসে ২ কোটি ২৪ লাখ ডলারের চুল রফতানি

প্রকাশিত: ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২১

আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া চুল খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ কোটি ২৪ লাখ ডলারের চুল ও পরচুলা রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশের বাজারে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি চুলের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিভিন্ন দেশে ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের চুল ও পরচুলা রফতানি হয়েছে।

জানা গেছে, ফেলে দেয়া এই চুল থেকে পরচুলা তৈরির পাশাপাশি পলিশ ও রূপ চর্চার বিভিন্ন ধরনের ক্রিম তৈরি করা হয়। ভারত, চীন ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি চুলের ক্রেতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়তই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চুলের ব্যবসা। গ্রাম ও শহরের মেয়েরা আঁচড়ানোর সময় ঝরে পড়া চুল জমিয়ে রাখছেন। তাদের কাছ থেকে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা এই চুল কিনছেন।

সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, রাজশাহী, নওগাঁ, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় চুল বেচাকেনার দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। নওগাঁয় সাপ্তাহিক হাটও বসে। চুল প্রসেসিংয়ের জন্য বেশ কয়েকটি কারখানাও গড়ে উঠেছে।

ইপিবি বলছে, বিগত পাঁচ অর্থবছরে চুল রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে প্রায় ১০ কোটি ডলার। প্রতি অর্থবছর চুলের রফতানি আয় প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের কৃত্রিম চুল ও মানুষের মাথার চুল রফতানি হয়েছে। ১ ডলার ৮৫ টাকা করে হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ পণ্য রফতানি হয়েছিল ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারীরা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর যে চুল পড়ে, তা ফেলে না দিয়ে গুছিয়ে রাখেন বিক্রির জন্য। গ্রামের ফেরিওয়ালারা মাসে একবার সেই চুল কিনে নিয়ে যান।

অনেক সময় গ্রামগঞ্জে, পাড়া-মহল্লাতেও হাঁক দিয়ে চুল কিনতে দেখা যায় এক শ্রেণির ফেরিওয়ালাকে। এসব চুল দিয়ে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের পরচুলা। চুলের ব্যবসা মূলত ১৯৯৯-২০০০ সালের পর থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রমশ একটি শিল্পের রূপ পরিগ্রহ করছে। চুল ব্যবসায়ীরা জানান, কেটে ফেলা চুল প্রতি কেজি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। তবে শর্ত হচ্ছে, চুলের আকার একটু বড় হতে হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটসের গ্লোবাল আউটলুক ও ফোরকাস্ট বলছে, ২০২৩ সালের মধ্যে পরচুলার বৈশ্বিক বাজার হবে ১ হাজার কোটি ডলারের, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮৫ হাজার কোটি টাকা।

এক কেজি চুল প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ৬০০ গ্রাম হয়। বাংলাদেশ থেকে দুই রকমের চুল রফতানি হয় এবং মান নির্ণয় করা হয় চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী। জানা গেছে, প্রতি কেজি চুলের দাম ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।