কুটির শিল্পের ন্যায় সমাজ গড়ার স্বপ্নপুরুষ হাজি কুদ্দুস রাড়ি

প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

(৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে) প্রথম পর্ব

স্টাফ রিপোর্টারঃ শিল্পের মতোই পরিবার ও সমাজ জীবনকে সাঁজিয়ে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া পরউপকারী মানুষ হাজি কুদ্দুস রাড়ির ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের এ দিনে তিনি সবাইকে শোক সমুদ্রে ভাসিযে মহান রাব্বুল আল আমীন এর ডাকে সারা দিয়ে তার স্থায়ী ঠিকানা চলে যান। মরহুমের পরিবার, এলাকাবাসী নারায়নপুরে ও ঢাকা আলাদা ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। কারুশিল্প শিল্পের নিপুন কারিগড় হাজি কুদ্দুস রাড়ীর বর্নাঢ্য জীবনে কিছু অংশ আমাদের পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।
মরহুম হাজী কুদ্দুস রাড়ির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি । তৎকালিন ফরিদপুর বর্তমান শরীয়তপুর জেলার, ভেদরগঞ্জ থানার নারায়নপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবার নাম এবাদুল্লাহ (সারেং) রাড়ী, মায়ের নাম ছিল খিরন্নেসা। ১৯৩১ সালের ১লা জুন জন্ম গ্রহন করেন কুদ্দুস রাড়ি । পিতা এবাদুল্লাহ রাড়ি ব্রিটিশ নৌযান পরিচালনা চাকুরী নেয়ায় তার রাড়ির পদবী পরির্বতন হয়ে এবায়দুল্লাহ সারেং হয়ে যায়। তখনকার সময়ে সমুদ্রগামী জাহাজ চালনার চাকুরী ছিল সৌভাগ্যের বিষয় ।কুদ্দুস রাড়ির পিতা এবায়দুল্লাহ ছিলেন সুশিক্ষিত , ভদ্র, মার্জিত ধরনের সামাজিক মানুষ । তখনকার সময় তিনি তার নিজ যোগ্যতা প্রমান দিয়ে আসাম ডেব্লুঘর পোর্ট কার্গো ভাসেলস এ চাকুরি লাভ করেন । পরবর্তিতে এলাকার অনেককেই তিনি চাকুরির সুযোগ করে দেন। কুদ্দুস রাড়ি বাবার সাথে তার কর্মস্থলে শিক্ষা জীবন শুরু করলেও তিনি ঐতিহ্যবাহী দারুল আমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধামিক পরীক্ষায় সুনামের সাথে উর্তিন হন। এরপরে ভর্তি হন ঢাকা চারুকলা ইনিস্টিটিউটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার প্রথম দিকের ছাত্র ছিলেন কুদ্দুস রাড়ী। তার সমসাময়িক এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন শিল্পচার্জ্য জয়নুল আবেদিন,পটুয়া কামরুল হাসান। তাদের সুহৃদ সহপাঠী হিসেবে তরুন শিক্ষার্থী কুদ্দুস রং, তুলি ও হস্ত শিল্প দিয়ে পথচলা শুরু করেন। সাথে ( বাশ, বেত, মোত্রা, চামড়া, পশুরশিং ও কাঠ দিয়ে নিত্য নুতন শিল্পের রূপায়ন ঘটিয়েছেন তিনি) কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সনদ এবং সম্মাননা লাভ করেন।
১৯৫৭ সালে মহিষার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সাজনপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠতা, পম গ্রাম বাসী মরহুম হাজী হোসেন আলী সরদারের ২য় কন্যা হাবিবা বেগমের সাথে বিবাহে আবন্ধন হন । মরহুমের মৃত্যুর পূর্বে চার ছেলে ও তিন মেয়ে নাতি নাতনী রেখে গেছেন ।
বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল বাকি রন্টু রাড়ি ( যিনি মরহুম হাজী কুদ্দুস রাড়ি কল্যাণ ট্রাষ্ট এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর) ১৯৮৪ সন থেকে অদ্য অবধি সৌদি আরাবে Procurement Manager হিসেবে ARAMCO বিভিন্ন প্রজেক্টে কর্মরত আছেন, এবং একজন certified wage earner হিসেবে সনদ প্রাপ্ত, এক ছেলে এক মেয়ে, বর্তমানে ক্যানাডা বিশ্ববিদ্যলয় অধ্যনরত আছেন । দাম্মাম বাংলাদেশ কমিউনিটি ও বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বাংলাদেশ আর্ন্তজাতিক বিদ্যলয়ের একজন উপদেষটা হিসেবে পরিচিতি দায়ীত্বরত।
মেজ ছেলে নাজমুল হাসান টিটু রাড়ি ১৯৯৪ থেকে ক্যানাডা স্বপরিবার অবস্থানে করছেন, ২ ছেলে এক মেয়ে নিয়ে । তিনি সেখানে সফল ব্যবসায়ি ও সামাজিক কর্মের সাথে জড়িত।
সেজ ছেলে নুর ইসলাম হাসান বিপু রাড়ি ১৯৯৫ সাল থেকে স্বপরিবারে ক্যানাডা অবস্থান করছেন ।এডমিন ম্যানেজার হিসেবে সেখানকার একটি ক্লাবে চাকুরিরত আছেন। ছোট ছেলে এম,আর হাসান মামুন রাড়ি প্রবাস জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে ,ঢাকা এডমিন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং মা এর দেখা শুনা করছেন।
বড় মেয়ে রোক্সানা কারিম রজি, গৃহবধূ । মেঝ মেয়ে শিরিনা শারিফ রুমি, গৃহবধূ এবং ছোট মেয়ে সেলিনা পারভিন মুক্তা, সরকার অনুমদিত সঙ্গীত শিল্পি, বর্তমানে আইন বিভাগে অধ্যয়নরত। সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজকে জড়িয়ে রেখেছেন।
মরহুম হাজী কুদ্দুস রাড়ি ১৯৫০ দশকে চাকুরির সাথে সাথে কুটির শিল্পের কাজের ঢাকা গেন্ডারিয়াতে একটা ট্রেনিং সেন্টার ART’S & CRAFTS নামে প্রতিষ্টান করে নিজের ছোট ভাই খালেক রাড়ি সহ অনেক গরিব আত্মিয় ও পরিচিত বন্ধুদের কে কারিগরি প্রশিক্ষন দান করেন । বাংলাদেশ (পাকিস্তান করাচীতে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনে বানিজ্য মেলাতে অংশ গ্রহন করে স্বর্ণ পদক লাভ করেন তাদের অনেকে নিজেদের চেষ্টায় জীবিকা অর্জনে সাফল্য লাভ করেছে । । পাকিস্তান/ বাংলাদেশ বিসিক শিল্পে কুদ্দুস রাড়ি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন, এবং কুমিল্লা, চট্রগ্রাম বিসিকের সহায়তায় কারিগরি প্রশিক্ষন দিয়েছেন । তখনকার ঐ সময়ে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমে অনেক নমুনা সংগ্রহ করে USA, UK, GERMANY পাঠানো হয় এবং ঐ প্রতিষ্ঠন গুলো সফলতা লাভ করে। ৫০ এর দশকে বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনে, ইন্ডাষ্টিরিয়াল ডিপার্টমেন্টের চীপ আর্টিস্ট – ডিজাইনার হিসাবে কর্মজীনের
সমাপ্তি টেনে অবসরে চলে আসেন।
১৯৬০ এর দশকে তিনি নারায়নপুরের উন্নয়নের প্রতি বেশ যত্নবান হন । স্বাধীনতা দিবসে নাটক, লোক সঙ্গীত, নৌকা বাইচ, সাঁতার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিজ অর্থে আয়োজন করতেন ও নিজে উপস্থিত থেকে সময় দিতেন । উল্লেখ্য মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পূর্বে ভেদেরগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে সাঁতার ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় আয়োজন করেন। ১৯৭০ এর বর্ন্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবে আদেশে রেড ক্রস সোসাইটি মাধ্যমে প্রয়াত জাতীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক এর নেতৃত্বে লাকার্তার কবির সিকদার স্থানীয আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দসহ স্পীড বোর্ডের মাধ্যমে ত্রান বিতরন কাজ করেন।
তৎকালিন সময়ে নারায়নপুর বাসীদের বাজার ঘাট করার জন্য ভেদরগঞ্জ, নান্দ্রার মাস্টার বাজার,সিড্যা আমিন বাজার অথবা চরকুমারিয়ার মোল্যার বাজারে যেতে হতো। গ্রাম বাসীর প্রতিদিনে এ সীমাহীন দুর্দশায় জন্য তিনি ভাবতেন। (বাকী অংশ আগামীকাল)